ধানের ব্লাষ্ট রোগ একটি মারাত্মক ছত্রাকজনিত সমস্যা যা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে। এই পোস্টে ব্লাষ্ট রোগের লক্ষণ, কারণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

রোগের লক্ষণ

  • ধানের পাতা, কান্ড ও শীষ রোগে আক্রান্ত হয়। 
  • প্রথমে পাতায় ডিম্বাকৃতি দাগ পড়ে যার দু’পান্তে লম্বা হয়ে চোখের আকৃতি ধারণ করে। 
  • দাগের মধ্যভাগ সাদা ছাই রংয়ের ও বাইরের দিকের প্রান্ত গাঢ় বাদামি রংয়ের হয়।
  • কয়েকটি দাগ একত্রে মিশে পাতাটিকে মেরে ফেলতে পারে।
  • গিটে থোর বের হওয়ার আগে আক্রান্ত হলে কালো দাগ পড়ে। 

সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা-

  • সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করা।
  • রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করা।
  • পাতা ব্লাষ্ট রোগ দেখা দিলে জমিতে পানি ধরে রাখতে হবে। 
  • পাতা ব্লাস্ট রোগ দেখা দিলে বিঘা (৩৩ শতাংশ) প্রতি অতিরিক্ত ৫ কেজি পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
  • অনুমোদিত ছত্রাকনাশক সঠিক মাত্রায় স্প্রে করা। কোনভাবেই ছত্রাকনাশকের মাত্রা কম বা বেশি করা যাবে না।
  • আগাম জাতের বোরো ধানের ফুল ফোটার সময় রাতে ঠান্ডা দিনে গরম, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও কুয়াশা থাকলে এক সপ্তাহ ব্যবধানে দুই বার ছত্রাকনাশক অনুমোদিত মাত্রায় স্প্রে করতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে নিম্নোক্ত বালাইনাশকের যেকোন একটি ১০-১২ দিন পর পর ০২ বার স্প্রে করতে হবে। 

বালাইনাশকের নাম: 

  • ট্রুপার ৭৫ ডব্লিউপি (ট্রাইসাইক্লাজোল) ০৮ গ্রাম প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। (প্রতি ১ শতাংশ জায়গার জন্য ২ লিটার পানি)
  • নাটিভো ৭৫ ডব্লিউপি (ট্রাইফ্লক্সিস্ট্রবিন+টেবুকোনাজল) ০৬ গ্রাম প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। (প্রতি ১ শতাংশ জায়গার জন্য ২ লিটার পানি)
  • ফিলিয়া ৫২৫ এসই (প্রোপিকোনাজল-১২.৫%) +ট্রাইসাইক্লাজোল (৪০%) ২০ গ্রাম প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। (প্রতি ১ শতাংশ জায়গার জন্য ২ লিটার পানি)
  • সেলটিমা (পাইরোক্লোস্ট্রাবিন) ২০ গ্রাম প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। (প্রতি ১ শতাংশ জায়গার জন্য ২ লিটার পানি) 
0 CommentsClose Comments

Leave a comment