বাদামি গাছ ফড়িং ধানের একটি মারাত্মক ক্ষতিকর পোকা, যা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। এর জীবচক্র, আক্রমণের লক্ষণ ও দমন পদ্ধতি জানতে পড়ুন বিস্তারিত।

ক্ষতির লক্ষণ:
- পূর্ণ বয়ষ্ক পোকা ও নিম্ফ ভেজা স্যাতসেতে জায়গার কাছাকাছি অবস্থান করে।
- গাছের কান্ড ও পাতার খোল থেকে রস শোষণ করে।
- একদিনে তাদের শরীরের ওজনের ১০-১২ গুণ খেতে পারে।
- দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং তৃতীয় প্রজন্মের আক্রমণের ফলে ধান গাছ প্রথমে হলুদ রং ধারণ করে এবং পরে শুকিয়ে যায়।
- দূর থেকে গাছগুলোকে পুড়ে যাওয়ার মতো দেখায়। এ ধরণের ক্ষতিকে হপার বার্ন বলে।
দমন ব্যবস্থাপনা:
অরাসায়নিক ব্যবস্থাপনা-
- সম্ভব হলে আক্রান্ত জমির পানি ৭-৮ দিনের জন্য বের করে দেয়া।
- আক্রমণ প্রবণ এলাকায় স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন ধান যেমন- বিনা-৭, ব্রিধান-৩৩, ব্রিধান-২৮ চাষ করা।
- ধান গাছ হাত/লাঠি দিয়ে বিলি দিয়ে আলো বাতাসের ব্যবস্থা করে দেয়।
- আক্রান্ত জমিতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ বন্ধ রাখা।
- সঠিক দূরত্বে (১০ইঞ্চি বাই ৮ ইঞ্চি) চারা রোপন করা ।
- জমিতে ১০ লাইন পর পর ১ লাইন গ্যাপ দেয়া।
- আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে পোকার উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
- জমিতে হাঁস ছেড়ে দেয়া ও জমিতে ডালপালা পুতে দেয়।

রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা-
বাদামি গাছ ফড়িং গাছের গোড়ায় থাকে। তাই স্প্রে করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন গাছের গোড়া ভালোভাবে ভিজে যায়। পোকার উপস্থিতি টের পাওয়ার সাথে সাথে অনুমোদিত কীটনাশক- সপসিন/মিপসিন/কনফিডর অনুমোদিত মাত্রায় স্প্রে করতে হবে।